সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০৩:০১ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

প্রথমবার প্রকাশ্যে কন্যা ইলহাম

শোবিজ অঙ্গনের অন্যতম জনপ্রিয় দুই তারকা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী আর নুসরাত ইমরোজ তিশা। শীর্ষ নির্মাতা আর শীর্ষ অভিনেত্রীর এই মেল বন্ধন একটি সময় ছিল টক অব দ্য টাউন। প্রিয় এই জুটি হাটি হাটি পা পা করে এক যুগ একসঙ্গে পার করে দিলেন। নির্ভেজাল জুটি বলতে যা বোঝায় তারা তাই। এই একযুগে কখনোই প্রকাশ্যে আসেনি এই তারকা জুটির মনোমালিন্য কিংবা নেতিবাচক খবর। এটিই তাদের স্বার্থকতা। যদিও তারা বরাবরই বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অকপটে বলেছেন, আর দশটি দম্পতির মতো তাদের সংসারেও ছোট খাট ঝগড়া, খুনসুটি, মনোমালিন্য হয়ে থাকে। তবে আদর্শ তারকা দম্পতির যে বৈশিষ্ট্য তা তারা বরাবরই বজায় রেখেছেন। নিজেদের কথাগুলো রেখেছেন সবসময় নিজেদের মধ্যেই। বিয়ের এক দশক পরও যখন বাবা-মা হওয়ার খবর শোনাচ্ছিলেন না, তা নিয়েও কি কম কানকথা হয়েছে! কিন্তু ফারুকী-তিশা কর্ণপাত করেননি। লেগে ছিলেন কাজে। নিজেদের পছন্দের সময়ের তারা স্বাগত জানিয়েছেন কন্যা সন্তানকে। এতদিন সেই ইলহামের ছবি সামাজিক মাধ্যমে একাধিকবার এসেছে ঠিকই, কিন্তু নিষ্পাপ মুখখানা দেখতে দেননি বাবা-মা। আড়ালে রেখেছিলেন মুখখানা। আর সেই পর্দা উন্মোচন করলেন নিজেদের বিশেষ দিনেই। হ্যাঁ, গতকালই দাম্পত্যের একযুগ পূর্ণ করলেন এই তারকা জুটি। যদিও এই বিশেষ দিনের ষোলকলা আনন্দ তারা উদ্যাপন করতে পারছেন না! কারণ, সম্প্রতি নিজের বাবাকে হারিয়ে শোকাগ্রস্ত ফারুকী। তবুও নিজেদের বিশেষ খবরটি অফিসিয়াল ফেইসবুক ফ্যান পেইজে শেয়ার করতে ভোলেননি তারা। অভিনেত্রী তিশা লিখেছেন, ‘দেখতে দেখতে বিয়ের ১২ বছর কাটিয়ে দিলাম। এই ১২ বছর সংসার জীবনের সবচাইতে সুন্দর উপহার আমাদের কন্যা ইলহাম নুসরাত ফারুকী। আলহামদুলিল্লাহ। সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নির্মাতা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকী লিখেছেন, ‘এই বছরটি আমাদের জন্য অদ্ভুত একটি বছর হয়ে থাকবে। এই বছরেই আমাদের জীবনে এসেছে ইলহাম। আবার এই বছরেই চলে গেলেন আমার বাবা। আর এই বছরই আমাদের বিয়ের বারো বছর পূর্তি হলো। আমাদের মনের অবস্থাটি কী এটি বোঝানোর মতো যুতসই শব্দ খুঁজতেছিলাম। পাই নাই। কত শত স্মৃতি মনে পড়ছে আমাদের এই বারো বছরের। এই জীবনতো কেবল স্মৃতি জমানোরই খেলা। আশা করি সামনে আরও মধুর-অম্ল সব স্মৃতি জমা হবে আমাদের ভান্ডারে। আমাদের যৌথ জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ঘটনা ইলহাম। আজকের এই দিনে আমরা ওর ছবি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি। আপনারা ওর জন্য দোয়া করবেন। সবাই ভালো থাকবেন।’

বাবা হারিয়ে ফারুকী লিখেছিলেন, ‘আব্বা-আম্মা নানাভাবে আমার নানা কাজে ছড়ায়ে আছে। কোথাও আমি টের পাই, কোথাও আমি জানিইনা কোন অলক্ষ্যে তারা দুজন ঢুকে বসে আছে আমার নানা দৃশ্যে। টেলিভিশন ছবিতে আব্বা আছেন তার সিংহসুলভ ভঙ্গি নিয়ে। যেটি নিয়ে এর আগেও আমি কয়েকবার লিখছি। কিন্তু যেটি নিয়ে আমি বোধ হয় কোথাও বলি নাই, সেটি হলো লেডিজ অ্যান্ড জেন্টলম্যানে আব্বার উপস্থিতি। এই সিরিজে কারও কারও সবচেয়ে পছন্দ আফজাল ভাই-ফারিনের সেগমেন্ট, কারও পছন্দ লরা-সাবিলার সেগমেন্ট, সবচেয়ে বেশি শুনেছি সাবিলা-বাবার অংশের কথা। এই বাবার অংশ পুরাটাই আমার আব্বার থেকে নেওয়া। আব্বার শেষ দিকে এসে পারকিনসন রোগ হয়। এবং ধীরে ধীরে সেটি থেকে এক্সট্রিম ডিমেনশিয়া হয়। উনি তখন বর্তমান আর অতীতের মাঝখানে একটি জগতে বাস করতে থাকেন। সন্তান হিসাবে সিংহের মতো বাবাকে এরকম মিইয়ে যেতে দেখা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে হার্ড এক্সপেরিয়েন্স। লেডিজ অ্যান্ড জেন্টলম্যানটা কালকে আবার দেখলাম, বিশেষ করে সাবিলা-বাবার দৃশ্যগুলা। নিজে বানানো জিনিস দেখে ইমোশনাল হওয়া খুব কঠিন কাজ। কিন্তু এই পর্যন্ত যতবারই এই দৃশ্যগুলা দেখেছি, কান্না আটকাতে পারি নাই। কালকে তো আরও পারি নাই। আব্বা-আম্মা বেঁচে থাকতে নানাভাবে আমাকে দিয়ে গেছেন দৃশ্যের পর দৃশ্য। কালকে মারা যাওয়ার সময়ও কিছু না দিয়ে যান নাই উনি। এই মুহূর্তে একটি বড় কাজের স্ক্রিপ্ট করছি। আব্বা মারা যাওয়ার সময় এমন একটি কিছু দিয়ে গেছেন যেটি ওই স্ক্রিপ্টে নতুন এবং গভীর এক বাঁক তৈরি করেছে। আব্বাতো, দিয়েই গেলেন চিরকাল!’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com